১৫ আগস্ট, ২০১৪

সাল ২০২৯; রোবট যখন মানবকে ছাড়িয়ে যাবে

গুগলের প্রকৌশল ডিরেক্টর রে কার্যওয়েইল এর মতে ২০২৯ সালে কম্পিউটার বুদ্ধিমত্তায় মানুষকে হার মানাবে। ঐ সময় তারা আমাদের কথা বুঝতে পারবে, অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে, কৌতুক ও গল্প বানাতে পারবে এমনকি আবেগও বিনিময় করতে পারবে। প্রযুক্তি মহলে  ৬৬ বছর বয়সী জনাব কার্যওএইলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমতার ক্ষেত্রে প্রধান একজন ভিশনারি মনে করা হয়। তিনিই সিগুলারিটি তত্বকে জনপ্রিয় করে তোলেন। সিগুলারিটি হল সেই মুহূর্ত যখন মানুষ ও মেশিন হবে সেয়ানে সেয়ানে। ২০১২ সালের শেষের দিকে গুগোল তাকে ভাড়া করে আনে কৃত্রিমভাবে বুদ্ধিমান এমন এক সার্চ ইঞ্জিন বানাবার জন্যে আমাদেরকে আমাদের চেয়ে ভালো জানবে।

একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন এখানে তাঁর কাজ হল শুধু সাধারণ ভাষাকে গুগোলের বোধগম্য করা।
তিনি বলেন, "আমার কাজ হচ্ছে সার্চকে ভাষার প্রকৃত অর্থের ভিত্তির উপর দাঁড় করানো। কোন একটা নিবন্ধ লেখার সময় আপনি মজদার শব্দের একটি সংগ্রহ তৈরি করেন না। গুগোল বিশ্বের তত্য-ভাণ্ডারকে সংগঠিত ও প্রক্রিয়াকরণের কাজে নিবেদিত।"
তাঁর কথায় বোঝা যাচ্ছে গুগোল পৃথিবীর বুকে সর্ববৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence-AI) ল্যাব বানাচ্ছে। প্রতিষ্টানটি অনেকগুলো মেশিন-লার্নিং ও রোবোটিক্স কোম্পানি কিনে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোস্টন ডাইন্যামিক্স যা প্রাণ-সদৃশ সামরিক রোবট তৈরি করে।
এই বছর (২০১৪) তারা নতুন ও আধুনিক বৃটিশ AI প্রতিষ্ঠান DeepMind কে ২৪২ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনে নিয়েছে। নিয়োগ দিয়েছে বৃটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও নিউরাল নেটওয়ার্কের বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এক্সপার্ট জিওফ্রে হিনটনকে।
বিশ্বকে বদলে দেওয়া কিছু যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য কার্যওয়েইল পরিচিত। তাঁর আবিষ্কৃত ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানার টাইপফেইস টেক্সট শনাক্ত করতে পারে এবং লেখাকে কথায় রূপান্তরের প্রথম সিন্থেসাইজারও এটি। ১৯৯০ সালে তিনি ভবিষ্যদ্বানী করেন যে ১৯৯৮ সালে কম্পিউটার দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারাবে। ১৯৯৭ সালে আইবিএম নির্মিত দাবা খেলুড়ে কম্পিউটার ডীপ ব্লু গ্যারি ক্যাসপারভকে হারায়। তিনি ইন্টারনেটের অগ্রযাত্রার অগ্রকথন করেন এমন এক সময় যখন গুটি কয়েক একডেমিসিয়ান মাত্র তা ব্যবহার করতেন।
অনেক বছর ধরেই তিনি বলে আসছে যে টুরিং টেস্ট অর্থাৎ কম্পিউটার মানুষের সমান বুদ্ধি প্রদর্শনের মুহূর্তটি ২০২৯ সালে পাশ করতে করতে পারবে। তিনি বলেন, "অন্য বিশেষজ্ঞরা যা বলেন আমি তার মাঝামাঝিতে অবস্থান করছি। মানুষ সিরির মত (Siri-অ্যাপলের কন্ঠ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি) জিনিসকে কে দেখেছে যেখানে আপনি কপিউটারের সাথে কথা বলেন। তারা গুগুলের স্ব্যং-চালিত (Self-driving) গাড়ি দেখেছে। এখন আর আমার মতামত গোঁড়া নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে গুগোলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজের সাথে এ নিয়ে কাজ করতে করতেই শেষে চাকরিই নিয়ে নেন।
২০০৯ সালে কার্যওয়েইল সিঙ্গুলারিটি ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন। এতে গুগোলও অর্থ সহায়তা দেয়। এটি তাঁর চিন্তা-ভাবনা ও প্রযুক্তি নিরন্তর বিকাশে নিবেদিত।
অবশ্য সিঙ্গুলারিটি সম্পর্কিত তাঁর এই বক্তব্যের উৎস গার্ডিয়ান পত্রিকা। কিন্তু তাঁর The Singularity Is Near বই থেকে যানা যায় তাঁর মতে সালটি আসলে ২০৪৫। সম্প্রতি এই সালটিই সবার মুখে মুখে।
 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আরো লেখার লিঙ্ক এখানে

সোর্সঃ
১. http://www.theguardian.com/technology/2014/feb/22/computers-cleverer-than-humans-15-years
২.  http://en.wikipedia.org/wiki/Technological_singularity#cite_note-singularity-7
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/The_Singularity_Is_Near

Abdullah Al Mahmud

লেখকের পরিচয়

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। অনলাইনে লেখালেখির হাতেখড়ি হলেও বর্তমানে পাই জিরো টু ইনফিনিটি, ব্যাপন ও প্যাপাইরাসসহ বেশ কিছু ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। শখ ও ভবিষ্যত পেশাগত টার্গেট জ্যোতির্বিদ্যা ও কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি নিয়ে গবেষণা। বিশ্ব ডট কমের কন্ট্রিবিউটর, সম্পাদক ও প্রকাশক।