৩১ অক্টোবর, ২০১৪

সায়েন্স ফিকশন রিভিউঃ টু প্ল্যানেটস

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ত্বের ব্যাপারে সবাই কৌতূহলী। অনেক সায়েন্স ফিকশনেই দেখা যায়, মঙ্গল গ্রহে কোন প্রাণের উপস্থিতি। এদের মধ্যে কুর্ট লাসউইজ (Kurd lasswitz) লিখিত 'টু প্ল্যানেটস' (Two Planets) বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অন্য কথা বলার আগে চলুন এর কাহিনীর সংক্ষিপ্তসার জেনে নিই। 

এক দল অভিযাত্রী সুমেরু (উত্তর মেরু) পৌঁছলেন গবেষণার জন্যে। দেখা গেল সেখানে আছে একটি মঙ্গল ঘাঁটি, মানে মঙ্গলগ্রহবাসীদের ঘাঁটি। মঙ্গলের অধিবাসীরা পৃথিবীর শুধু মেরু অঞ্চলেই টিকে থাকতে পারে (গল্পটির মতে)। কারণ হচ্ছে পৃথিবীর অন্যান্য অক্ষাংশে পৃথিবীর যে আবর্তন বেগ, তার ধকল তাদের আকাশযান সইতে পারে না। এখানে উল্লেখ্য, বিষুব অঞ্চল তথা দুই মেরুর ঠিক মাঝামাঝি অঞ্চলে পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূবে আবর্তন বেগ সর্বোচ্চ। এই বেগ ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে মেরু অঞ্চলে গিয়ে শূন্যে ঠেকে।
মঙ্গলবাসীদের চেহারা সুরত পৃথিবীবাসীদের মতই। পার্থক্য শুধু চোখের আকারে। তাদের চোখ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বড়। এই বড় চোখের মাধ্যমে তারা আরো বেশি আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে। তারা পৃথিবীর অধিবাসীদের নাম দিয়েছে 'ছোট্ট চোখ-ওয়ালারা'। মঙ্গলের অধিবাসীরা অতি উন্নত ও শান্তিপ্রিয়। গল্পের কাহিনী শেষ হয় দুই গ্রহের অধিবাসীদের মধ্যে এক যুদ্ধে মঙ্গলের জয়ের অভিনব রহস্যের মধ্য দিয়ে।
যে কোন সায়েন্স ফিকশনেই সাধারণত বিজ্ঞানের কোন না কোন বিশেষ পয়েন্টের প্রতি বিশেষ আলোকপাত করা হয়। আর, এই গল্পে সেটা করা হয়েছে যুদ্ধের সময়।
সে অংশটুকু এমন,
অস্ত্র-শস্ত্রে সুসজ্জিত পৃথিবীর অশ্বারোহী বাহিনী দ্রুত বেগে অগ্রসর হল। মনে হচ্ছে, প্রবল আক্রমণ সইতে না পেরে মঙ্গলবাহিনী পিছু হটছে। এ সময় শত্রুপক্ষের (মঙ্গল) বিমানগুলোতে হৈচৈ পড়ে গেল। তারা আকাশের আরো উর্ধ্বে উঠতে লাগল, যেন পরাজয় মেনে নিচ্ছে। এবার মাঠের ওপরে অদ্ভুত এক যন্ত্র এসে দাঁড়াল। অশ্বারোহীরা এর নিচে এসে দাঁড়াতেই তাদের তরবারী, পাইক, এক কথায় সব লৌহ নির্মিত অস্ত্র ঝনঝনিয়ে যন্ত্রের গায়ে গিয়ে জড়িয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত শত্রুর কোন ক্ষতি না করেই তারা মর্ত্যবাসীর সমস্ত অস্ত্র-শস্ত্র লুণ্ঠন করে নিল। যন্ত্রটা তাদের নতুন উদ্ভাবন, যা প্রচণ্ড শক্তিতে ইস্পাত ও লোহাকে আকর্ষণ করে। এই যন্ত্র দিয়ে তারা শহর অভুমুখে পলায়মান সব সৈন্যদের অস্ত্রও কেড়ে নিল। 

 এবার আসুন প্রভাবশালী এই সায়েন্স ফিকশনের টুকিটাকি জেনে নিই। এর প্রকাশকাল ১৮৯৭ সাল। আর, এ জন্যেই কিন্তু এতে মর্ত্যবাসীর কোন আধুনিক জঙ্গী বিমান নেই, রকেট, মিসাইল নেই। আছে কেবল পদাতিক ও অশ্বারোহী যোদ্ধা।
এর লেখক কুর্ট লাসউইজের বাড়ী জার্মানি। পেশায় লেখক, বিজ্ঞানী ও দার্শনিক। তাঁকে জার্মান সায়েন্স ফিকশনের জনক বলা হয়। ছদ্মনামে ভেলাটুস নামেও পরিচিত।
চারশোর অধিক রিভিউদাতা লেখক থিওডোর স্টারজান নিউ ইয়র্ক টাইমসে কাহিনীটিকে কৌতূহলোদ্দীপক ও মোহনীয় বলে উল্লেখ করেন।
সূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়াঃ Two Planets
২. উইকিপিডিয়াঃ  Theodore Sturgeon


Abdullah Al Mahmud

লেখকের পরিচয়

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। অনলাইনে লেখালেখির হাতেখড়ি হলেও বর্তমানে পাই জিরো টু ইনফিনিটি, ব্যাপন ও প্যাপাইরাসসহ বেশ কিছু ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। শখ ও ভবিষ্যত পেশাগত টার্গেট জ্যোতির্বিদ্যা ও কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি নিয়ে গবেষণা। বিশ্ব ডট কমের কন্ট্রিবিউটর, সম্পাদক ও প্রকাশক।